করোনার কবলে মানবসমাজ

[responsivevoice_button voice=”Bangla India Female” buttontext=”Listen In Bengali(Play/Pause)”]

করোনার জেরে গোটা বিশ্ব জুড়ে হাহাকার। লোকমুখে আর্তনাদের মত বেরিয়ে আসছে কবে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাব আমরা! কবে এই ভাইরাসের বিনাশ হয়ে আবার আগের মত ধরিত্রী সুজলা-সুফলা হয়ে উঠবে! সবাই চায় এই মারণ রোগ সংক্রমিত যাতে আর না হয়, তাই দেশ জুড়ে লকডাউন করতে বাধ্য হয়েছেন সরকার। প্রথমে ১৪ দিন বলা হলেও লকডাউন বাড়াতে বাধ্য হন কারণ সামাজিক ব্যবধান – ই এর একমাত্র উপায়, এখন এই লকডাউন ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত। আবার আজই (১৪/০৪/২০২০) প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে এই লকডাউন ৩ রা মে পর্যন্ত কার্যকর করা হবে এবং কাল (১৫/০৪/২০২০) এই বিষয়ে আরও নির্দেশিকা জারি হবে। কিন্তু কিছু সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে বাইরে বেরোচ্ছেন, খুঁজছেন বিলাসিতা। তাঁরা বুজতেই পারছেন না যে কি ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছি।অন্যদিকে দিশেহারা কিছু মানুষ পেটের তাগিদে রোজকারের আশায় পথে বসছে।

সাহায্যের হাত :

এইসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিছু উদারমনভাবাপন্ন মানুষ তাঁদের সাধ্যমত দান করে চলেছেন।

বেসামাল পরিস্থিতি :

এই লকডাউন এ বেড়েছে নিত্য পণ্যের দাম, বেড়েছে চাহিদা। এরকম শোচনীয় অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় উঠেছে কালোবাজারির অভিযোগ। হঠাৎ করেই জিনিসের দাম বেড়ে চলেছে। বাজারে মিলছে না জীবনদায়ী ওষুধ। যার ফলে গভীরতর সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় হটস্পট :

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার জন্য মূখ্যসচীব রাজীব সিংহ কিছু এলাকাকে হটস্পট এর আওতাভুক্ত করেন এবং সেখানে সম্পূর্ণ লকডাউন কার্যকর হবে বলে জানান। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর, ভবানীপুর, মুদিয়ালী, বুড়াবাজার,নয়াবাদ, দমদম, সল্টলেক, উল্টোডাঙা এবং বেলঘরিয়া এছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অংশ, হাওড়ার ফাটক এরিয়া, ফোরেস্বর রোড, রাজবল্লভ সাহা লেন, সালকিয়া অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও এগরা (পূর্ব মেদিনীপুর ), তেহট্ট(নদীয়া) এবং হলদিয়ার কিছু অংশকেও হটস্পট এর আওতাভুক্ত এবং চিহ্নিত এই হটস্পট এলাকা গুলিতে “rapid test” করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। Bengal to impose total lockdown in 10 COVID-19 Hotspots|

এই সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না যায় তাই উপরিউক্ত এলাকা গুলিতে কাউকে ঢুকতে বা বেরোতে দেওয়া হবে না। নবান্ন সূত্রে খবর, এই হটস্পট আপাতত ১৪ দিন বহাল থাকবে। এই হটস্পট এর মাস্টার প্ল্যান কেন করা হয় তাও তিনি বলেন যে ১১ টি পরিবার থেকে ৭০ এর বেশী কোভিড সংক্রমণ ঘটেছে এবং তা পাড়া প্রতিবেশীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এই পরিকল্পনা।

আশাকরি আমরা সবাই এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে এক সুন্দর সকাল দেখতে পাব। সুস্থ থাকুন, ঘরে থাকুন।

 179 total views,  1 views today

2020-04-14

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *